মুর্শিদাবাদ-কাহিনী/কাশীমবাজার

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কাশীমবাজার

নেমিনাথের মন্দির

 বাঙ্গলার প্রসিদ্ধ বন্দর সপ্তগ্রামের ধ্বংসের পর যৎকালে কলিকাতার অভ্যুদয় সুদূর ভবিষ্যদ্‌গর্ভে অন্তর্নিহিত ছিল, সেই সময়ে কাশীমবাজার নিম্নবঙ্গে বাণিজ্যবিষয়ে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করে। মুর্শিদাবাদ বাঙ্গলার রাজধানী হওয়ায় পূর্ব হইতে কাশীমবাজারের নাম পাশ্চাত্য জগতে বিঘোষিত হয়। ইহাতে এবং ইহার নিকটস্থ অনেক স্থানে প্রধান প্রধান ইউরোপীয় জাতির কুঠী সংস্থাপিত ছিল। তন্মধ্যে কাশীমবাজারে ইংরেজদিগের, কালিকাপুরে ওলন্দাজদিগের, শ্বেতাখাঁর-বাজারে আর্মেনীয়দিগের ও সৈয়দাবাদ-ফরাসডাঙ্গায় ফরাসীদিগের চিহ্ন অদ্যাপি দেখিতে পাওয়া যায়। কাশীমবাজার ও কালিকাপুরে ইংরেজ ও ওলন্দাজদিগের এক-একটি সমাধিক্ষেত্র এবং শ্বেতাখাঁর-বাজারে আর্মেনীয়দিগের একটি উপাসনামন্দির অদ্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে। কাশীমবাজার-সমাধিক্ষেত্রে ভারতবর্ষের প্রথম গবর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রথম পত্নী মেরী ও শিশু কন্যা এলিজাবেথের সমাধি আছে। আর্মেনীয়দিগের উপাসনা মন্দিরে তাহার নির্মাণাব্দ ১৭৫৮ খ্রীঃ অব্দ লিখিত রহিয়াছে।[১] ফরাসীদিগের নির্মিত ফরাসডাঙ্গার প্রসিদ্ধ বাঁধের ভগ্নাবশেষ[২] আজিও ভাগীরথীর স্রোত প্রতিহত করিয়া, সমস্ত নগরকে রক্ষা করিতেছে; কিন্তু এক্ষণে তাহা মৃত্তিকামধ্যে প্রোথিত হইয়া পড়িয়াছে। ফরাসডাঙ্গায় কিছুকাল কূটনীতি-বিশারদ ডিউপ্লে বাস করিয়াছিলেন। সিরাজউদ্দৌলার সময় ‘ল’ সাহেব এইখানে অধ্যক্ষতা করিতেন; সিরাজের সহিত তাঁহার সবিশেষ পরিচয় ছিল। কাশীমবাজারের ইংরেজ কুঠী বা রেসিডেন্সীর চাতালের সামান্য অংশ ব্যতীত অন্য কোন চিহ্নই বর্তমান নাই। তৎকালে ভাগীরথী এই সকল স্থানের নিম্ন দিয়া প্রবাহিত হইতেন; কিন্তু তাঁহার গতি বক্র হওয়ায় কাশীমবাজার হইতে মুর্শিদাবাদে যাইতে অনেক সময় লাগিত। হলওয়েল সাহেব লিখিয়াছেন যে, অন্ধকূপ হত্যার পর যখন তাঁহাকে কলিকাতা হইতে বন্দী-অবস্থায় মুর্শিদাবাদে আনয়ন করা হয়, তখন তিনি প্রাতঃকালে সৈয়দাবাদ-ফরাসডাঙ্গা হইতে যাত্রা করিয়া অপরাহ্ণ চারি ঘটিকার সময় মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হন।[৩] ১৭৮৮ খ্রীঃ অব্দে মুর্শিদাবাদ কারবালা হইতে ফরাসডাঙ্গা পর্যন্ত ভাগীরথীর একটি খাল নিখাত হওয়ায়[৪] নদীর গতি পরিবর্তিত এবং তন্নিবন্ধন কাশীমবাজার প্রভৃতি স্থানের নিম্নস্থ ভাগীরথীর অংশ বদ্ধ বিলে পরিণত হয়; এই কারণেই ভীষণ মহামারী উপস্থিত হইয়া উক্ত স্থানসমূহকে মহাশ্মশানে পরিণত করে ।

 খ্রীস্টীয় সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে কাশীমবাজারের নাম ইউরোপখণ্ডে বিস্তৃত হয়। ভাগীরথীর যে-অংশ পদ্মা হইতে নিঃসৃত হইয়া জলঙ্গীর সহিত মিলিত হইয়াছে, সেই ভাগকে সচরাচর ইউরোপীয়গণ কাশীমবাজার-নদী নামে অভিহিত করিতেন এবং পদ্মা, ভাগীরথী ও জলঙ্গীর মধ্যস্থিত ত্রিকোণ ভূভাগ ‘কাশীমবাজার দ্বীপ’ আখ্যাপ্রাপ্ত হইয়াছিল।[৫] মেজর রেনেল কাশীমবাজার দ্বীপ নাম দিয়া উক্ত ত্রিকোণ-ভূভাগের একখানি মানচিত্র অঙ্কিত করিয়াছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে উক্ত মানচিত্র অঙ্কিত হয়, তাহাতে সৈয়দাবাদ-ফরাসডাঙ্গা হইতে কাশীমবাজারের নিম্ন দিয়া মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত ভাগীরথীর বক্রগতিই নদীর প্রবাহরূপে নির্দেশিত হইয়াছে।[৬] রেনেলের মানচিত্র হইতে অষ্টাদশ শতাব্দীর অনেক স্থানের অবস্থান সুন্দররূপে অবগত হওয়া যায়। কাশীমবাজার-নদীর সঙ্কীর্ণতার কথা বহুদিন হইতে প্রচলিত রহিয়াছে। ১৬৬৬ খ্রীঃ অব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে বার্নিয়ারটেভার্নিয়ার সূতীতে পঁহুছিলে, বার্নিয়ার জলপথে আসায় অসুবিধাবোধে স্থলপথে কাশীমবাজারে উপস্থিত হন। টেভার্নিয়ার ইহাকে একটি ক্ষুদ্র খাল বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। হেজেস ১৬৮৬ খ্রীঃ অব্দের এপ্রিল মাসে নদীয়া হইতে মহুলায় উপস্থিত হইয়া, জলপথে আসিতে না পারিয়া স্থলপথেই কাশীমবাজারে আগমন করেন।[৭] হলওয়েল কলিকাতা হইতে মুর্শিদাবাদে আসার সময় জলাভাবে বজরা পরিত্যাগ করিয়া একখানি ক্ষুদ্র ডিঙ্গি-নৌকার সাহায্যে মুর্শিদাবাদাভিমুখে অগ্রসর হইতে বাধ্য হন।[৮] বরাবর সঙ্কীর্ণ থাকিলেও ভাগীরথীর এমন দুর্দশা আর কখনও ঘটে নাই।

 পূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে, কাশীমবাজার বহু পূর্ব হইতেই নিম্নবঙ্গের প্রসিদ্ধ বাণিজ্য-স্থান বলিয়া পাশ্চাত্য জগতে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ১৬৩২ খ্ৰীঃ অব্দে ব্রুটান-নামক জনৈক ইউরোপীয় ইহাকে রেশম ও মসলিনের প্রধান বন্দর বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন; তাঁহার বর্ণনায় কাশীমবাজারে ভিন্ন ভিন্ন ইউরোপীয় জাতির কুঠীর উল্লেখ দেখা যায়। ১৬৫৮ খ্রীঃ অব্দে জন কেন বার্ষিক ৪০ পাউণ্ড বেতনে কাশীমবাজার ইংরেজ কুঠীর প্রথম অধ্যক্ষ এবং জব চার্ণক তাঁহার সহকারী নিযুক্ত হন। এই চার্ণকই কলিকাতার প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। ১৬৮০ খ্ৰীঃ অব্দে চার্ণক কাশীমবাজার কুঠীর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হইয়াছিলেন। ১৬৮৬ খ্রীঃ অব্দে নবাব শায়েস্তাখাঁর কঠোর আদেশে বাঙ্গলার অন্যান্য স্থানের ন্যায় কাশীমবাজার কুঠীও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইহার পর ইংরেজরা পুনর্বার বাঙ্গলায় বাণিজ্য করিবার আদেশ প্রাপ্ত হইলে, কাশীমবাজার কুঠীর পুননির্মাণ হয়। সিরাজউদ্দৌলা যৎকালে কাশীমবাজার কুঠী আক্ৰমণ করেন, তৎকালে ওয়াট্‌স্‌ রেসিডেন্টের ও ওয়ারেন হেস্টিংস একজন সামান্য কর্মচারীর কার্য করিতেন।[৯] কাশীমবাজার পূর্বে অগণ্য অট্টালিকায় পরিপূর্ণ ছিল। এইরূপ প্রবাদ আছে যে, ইহার পরস্পরসংলগ্ন গগনস্পর্শী অট্টালিকার জন্য রাজপথে সূর্যালোক প্রবেশ করিতে পারিত না এবং দুই-তিন ক্রোশব্যাপিনী সৌধমালার অগ্রভাগ দিয়া লোকে অনায়াসে যাতায়াত করিতে পারিত। ইহার পূর্ব বিবরণ এক্ষণে আরবের উপন্যাস বলিয়া বোধ হয়। কয়েকটি সমাধিক্ষেত্র ব্যতীত ইহার পূর্ব নিদর্শন কিছুই দেখিতে পাওয়া যায় না ।

 কাশীমবাজারের প্রাচীন কালের চিহ্নের মধ্যে একটি জৈন মন্দির মুর্শিদাবাদের জৈন মহাজনদিগের যত্নে অদ্যপি সুরক্ষিত রহিয়াছে। লোকে এই মন্দিরকে নেমিনাথের মন্দির বলিয়া থাকে। ভিন্ন ভিন্ন ইউরোপীয় বণিকদিগের ন্যায় কাশীমবাজার অনেক দেশীয় মহাজনের আবাসস্থানেও পরিপূর্ণ ছিল। যে-স্থানে নেমিনাথের মন্দির অবস্থিত, তাহার নাম মহাজনটুলি। ইহার চতুর্দিকে ভিন্ন ভিন্ন দেশীয় মহাজনগণ বাস করিতেন। নেমিনাথের মন্দিরের সম্মুখে জগৎশেঠদিগের একটি ব্যবসায়-ভবন অদ্যাপি বর্তমান রহিয়াছে।[১০] যতদিন হইতে কাশীমবাজার বাণিজ্যস্থল বলিয়া কথিত, ততদিন হইতে নেমিনাথ-মন্দিরের প্রতিষ্ঠা। মন্দিরটি পশ্চিমমুখে অবস্থিত। প্রবেশদ্বার দিয়া একটি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হইয়া দক্ষিণমুখে আর একটি প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিতে হয়। সেই প্রাঙ্গণের পূর্বদিকে মন্দির, মন্দিরের সম্মুখে একটি বারাণ্ডা এবং উত্তর, দক্ষিণ উভয় পাশ্বে দুইটি দালান, পশ্চাতে একটি সঙ্কীর্ণ পথ আছে, সেই পথের মধ্যস্থলে মন্দিরের নিম্ন দিয়া প্রাঙ্গণ পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গ গিয়াছে, সুড়ঙ্গের সোপানাবলী সুস্পষ্ট রূপেই দৃষ্ট হয়। মন্দিরমধ্যে নেমিনাথ, পার্শ্বনাথ প্রভৃতি শ্বেতাম্বর জৈন সম্প্রদায়ের চতুর্বিংশতি মহাপুরুষই অবস্থিতি করিতেছেন। নেমিনাথের মন্দির বলিয়া তিনি সর্বোচ্চ আসনে অবস্থিত। নেমিনাথের মূর্তি পাষাণময়ী এবং পার্শ্বনাথের মূর্তি অষ্টধাতু-নির্মিত। দক্ষিণ দিকের একটি ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে দিগম্বর সম্প্রদায়ের কতিপয় দেবমূর্তি দেখিতে পাওয়া যায়। উত্তর দিকের দালানের পর আর একটি প্রাঙ্গণ; তথায় একটি ক্ষুদ্র মন্দিরে জৈনযতিগণের চরণপদ্ম রহিয়াছে। সেই প্রাঙ্গণের একস্থলে জগৎশেঠদিগের বাসভবন মহিমাপুর হইতে নিত্যচন্দ্রজী-নামক জনৈক যতির কষ্টিপাষাণে অঙ্কিত চরণপদ্ম আনিয়া রক্ষিত হইয়াছে। মন্দিরের পশ্চাদ্‌ভাগে অর্থাৎ পূর্বদিকে একটি উদ্যান; উদ্যানসংলগ্ন আর একটি ক্ষুদ্র মন্দিরে শান্তশূর, কুশলগুরু প্রভৃতি যতিগণের চরণপদ্ম অঙ্কিত আছে। উদ্যানের পশ্চাতে একটি পুরাতন পুষ্করিণীর নাম মধুগড়ে; মধুগড়ে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত। মধুগড়ের চতুস্পার্শ্বে জৈন মহাজনদিগের বাসভবন ছিল। চারিদিক সোপানাবলীর দ্বারা পরিশোভিত হইয়া মধুগড়ে সাধারণের আনন্দ বর্ধন করিত। যৎকালে মহারাষ্ট্ৰীয়গণ সমস্ত বঙ্গদেশ লুণ্ঠন করিয়া মুশিদাবাদ পর্যন্ত ধাবিত হয়, সেই সময়ে, মধুগড়ের চতুষ্পার্শ্বের মহাজনেরা আপনাদিগের ধনসম্পত্তি চিহ্নিত করিয়া, তাহার গর্ভে নিহিত করিয়াছিলেন। তাঁহারা অনেকে আপনাদিগের ধনসম্পত্তির উদ্ধার করিতে সক্ষম হন নাই। তদবধি এইরূপ প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, যক্ষদেব তৎসমুদায় অধিকার করিয়া ইহার গর্ভে বাস করিতেছেন। কাশীমবাজারের ধ্বংসের সহিত মধুগড়ে পঙ্ক পরিপূর্ণ হইয়া ক্ৰমে ক্ৰমে শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়। সেই আচ্ছাদন এরূপ ঘনীভূত ও কঠিন হইয়াছিল যে, তাহার উপর অনেক বৃক্ষাদিও জন্মে। ইহার গভীরতা অত্যধিক ছিল। একসময়ে একটি হস্তী ইহার পঙ্কে নিমগ্ন হওয়ায়, অনেক কষ্টে তাহার উদ্ধার সাধন হয়। মধুগড়ের চতুর্দিকে এক্ষণে জঙ্গলপরিপূর্ণ ও ক্ষুদ্রকায় কুম্ভীরসকল ইহার গর্ভে বাস করিতেছে ; তাহারা প্রায়ই তীরে উঠিয়া নিঃশঙ্কচিত্তে রৌদ্র উপভোগ করিয়া থাকে।

 নেমিনাথের মন্দির ব্যতীত কাশীমবাজার ব্যাসপুরে একটি সুন্দর শিবমন্দির আছে। এই মন্দির ব্যাসপুরের সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত কৃষ্ণনাথ ন্যায়পঞ্চাননের পিতা রামকেশব-কর্তৃক ১৭৩৩ শক বা ১৮১১ খ্রীঃ অব্দে নির্মিত হয়। মন্দিরমধ্যে এক প্রকাও শিবলিঙ্গ অবস্থিত। মন্দিরটি নানাবিধ দেবদেবীর মূর্তিবিশিষ্ট ইষ্টকদ্বারা নিমিত। বড়নগরস্থ রানী ভবানীর নির্মিত শিবমন্দিরের অনুকরণে ইহার নির্মাণ হইয়াছে বলিয়া বোধ হয়। মন্দিরটি অধিক পুরাতন নয় বলিয়া আজিও দেখিবার উপযোগী আছে। কাশীমবাজারের অর্ধক্রোশ দক্ষিণে বিষ্ণুপুর-নামক স্থানে এক প্রসিদ্ধ কালীমন্দির বিদ্যমান আছে। এই মন্দিরে পূজোপলক্ষে মধ্যে মধ্যে অনেক লোকের সমাগম হইয়া থাকে। বিষ্ণুপুরের কালীমন্দির কৃষ্ণেন্দ্র হোতা নামক জনৈক ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণের নির্মিত বলিয়া কথিত।[১১] কৃষ্ণেন্দ্র হোতা কাশীমবাজার ইংরেজকুঠীর গোমস্তা ছিলেন। হোতার অনেক সৎকী্র্তি এতদঞ্চলে দৃষ্ট হয়, তন্মধ্যে সৈয়দাবাদের দয়াময়ী ও জাহ্নবীতীরস্থ শিবমন্দিরই সর্বপ্রধান। খাগড়া-সৈয়দাবাদ হইতে বিষ্ণুপুরে আসিতে হইলে, একটি বিল অতিক্ৰম করিতে হয় বলিয়া, হোতা তথায় একটি সেতু নির্মাণ করিয়া দেন। অদ্যপি তাহা হোতার সাঁকো নামে প্রসিদ্ধ। কৃষ্ণেন্দ্র হোতা পলাশীর যুদ্ধ, দেওয়ানী গ্রহণ প্রভৃতি প্রধান প্রধান ঘটনার সময় বর্তমান ছিলেন । তাঁহার নির্মিত কোন কোন দেবমন্দিরের শিলালিপির সময় হইতে ঐরূপই অনুমান হয়। এইরূপ দুই-একটি মন্দির ও সমাধিক্ষেত্র ব্যতীত কাশীমবাজারের পুরাতন চিহ্ন কিছুই দেখিতে পাওয়া যায় না। সর্বহারী কাল ইহার সমস্তই অপহরণ করিয়া কাশীমবাজারের পূর্বগৌরব কাহিনীতে পরিণত করিয়াছে।

  1. শ্বেতাখাঁর বাজারের গির্জা কাহারও কাহারও মতে খাজা মাইনাস এবং কাহারও কাহারও মতে পিটার আরাটুন-কর্তৃক নির্মিত হয়। গির্জা মেরীর নামে উংসর্গীকৃত করা হইয়াছিল। ১৬৪৫ খ্রীঃ অব্দে আর্মেনীয়গণ দিনেমারদিগের সহিত মিলিত হন। ইহার ২০ বৎসর পরে আরঙ্গজেবের দরবার হইতে আর্মেনীয়গণ সৈয়দাবাদে এক খণ্ড ভূমির সনন্দ প্রাপ্ত হন এবং তথায় একটি গির্জা নির্মাণ করেন। সেই গির্জাই এতদ্দেশে প্রথম আর্মেনীয় গির্জা (Calcutta Review, January 1894)। ১৭৫৮ খ্ৰীঃ অব্দের গির্জা প্রথম নিমিত গির্জার পূর্বদিকে নির্মিত হইয়াছিল।
  2. কেহ কেহ উক্ত ভগ্নাংশকে ফরাসডাঙ্গার সেতুর অংশ বলিয়া থাকেন; কিন্তু সে কথা অনেকের মতে ঠিক নহে।
  3. Holwell's India Tracts. p. 272.
  4. Proceedings of the Board of Revenue.
  5. Orme's Indostan (Madras Reprint) Vol. II. p. 2.
  6. যাহাকে এক্ষণে লোকে কাটীগঙ্গা বলে, সেই কাটীগঙ্গাই নদীর প্রাচীন প্রবাহ ছিল। তখন ভাগীরথী মুর্শিদাবাদ-কারবালা হইতে সৈয়দাবাদ-ফরাসডাঙ্গা পর্যন্ত এরূপ ঋজুগতি অবলম্বন করেন নাই। ১৭৮৮ খ্ৰীঃ অব্দে খাল নিখাত হওয়ায় ঐরূপ পরিবর্তন হয়। কাটীগঙ্গাই নদীর প্রাচীন প্রবাহ ছিল, গঙ্গার নূতন প্রবাহস্থান খনিত হওযায় তাহার পূর্বদিকের ভূভাগকে মহাল কাটীগঙ্গা বলিত। গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ উক্ত মহালের অন্তর্গত হওয়ায় তাহাকে জলকর কাটীগঙ্গা বলা হইত। এক্ষণে উক্ত প্রাচীন প্রবাহের সাধারণ নাম সেইজন্য কাৰ্টীগঙ্গা হইয়া উঠিয়াছে।
  7. Calcutta Review, April 1892.
  8. Holwell's India Tracts, p. 269.
  9. এক্ষণে কান্তবাবুর ভ্রাতার বংশীয়েরা ইহাতে বাস করিতেছেন।
  10. কাশীমবাজারের বিস্তৃত বিবরণ মুর্শিদাবাদের ইতিহাসে দেখ ।
  11. বিষ্ণুপুরের কালীমন্দির ভগ্নদশায় পতিত হওয়ায় কাশীমবাজারের প্রাতঃস্মরণীয়া রানী স্বর্গীয়া আর-না-কালী দেবী ইহার পূর্ণ সংস্কার করিয়া দিয়াছিলেন। পরে লালগোলার মহারাজ রাও যোগীন্দ্রনারায়ণ রায় বাহাদুর আবার অতি সুন্দররূপে তাহার সংস্কার করিয়া দিয়াছিলেন।